আকাশ ছোয়া ভালোবাসা
আমার নাম আব্দুল করিম। আমি এখন ক্লাস নাইনে পড়াশোনা করি। আমি রাজশাহী
গিয়েছিলাম বন্ধুর বিয়ে খাইতে, রাজশাহী থেকে বাসায় যাবো ভাবছিলাম বাসে যাবো নাকি
ট্রেনে যাবো? আমার বন্ধুরা বলল যে, রাজশাহী কোর্ট ষ্টেশন থেকে সকাল ৯.৩০ মিনিটে
ট্রেন আছে। আমি ভাবছিলাম বাসে যাবো কিন্তু তাদের কথা শুনে ট্রেনে আসার ইচ্ছে
হলো সকালে ঘুম থেকে উঠলাম ফ্রেশ হয়ে রাজশাহী কোর্ট ষ্টেশনের দিকে রওনা দিলাম।
সেই দিনটি ছিলো- ২৮-০৮-২০২১ইং শনিবার। আমি রাজশাহী কোর্ট ষ্টেশনে ট্রেন আসার
অপেক্ষা করছি। ট্রেন আসতে দেরি করছে তাই এক জায়গায় গিয়ে বসলাম।
আমার সামনে একটি মেয়ে দাড়িয়ে ছিলো, আমি তার দিকে তাকালাম, তার সাথে তার ভাবী,
ছোট একটা বাচ্ছা এবং তার ভাইয়া ছিলো। মেয়েটি তার ভাইয়ের ফোনে সেলফি তুলছিলো। তা
দেখে আমিও আমার একটা পিক তুললাম। আমি তাদের দিকে তাকাতে গিয়ে দেখলাম তার ভাবী
আমার দিকে তাকিয়ে আছে, তারপর দেখলাম তার ভাই ঐ বাচ্চার জন্য কিছু খাবার নিয়ে
আসলো।
আমি ফোন টিপতে লাগলাম। একা একা বোরিং হচ্ছিলাম, ট্রেন আসতে আজকে একটু বেশিই
দেরি করছে। অতঃপর হঠাৎ দেখি সেই মেয়ের ভাই আমার সামনে। আমি মাথা উঠাতেই তার ভাই
আমাকে বলল যে, ভাইয়া। আমার ওয়াইফের মাথা ঘুরাচ্ছে যায়গাটা একটু দেওয়া যাবে? আমি
বললাম হ্যাঁ অবশ্যই, এটা বলে আমি ওখান থেকে উঠে চলে আসলাম। তারা সেখানে গিয়ে
বসলো, আর আমি সামনের দিকে দাড়ালাম। কিছুক্ষণ পর ট্রেন চলে আসলো, আমি ভাবছিলাম
কোন বগিতে উঠবো, তখনি দেখতে পেলাম তারা এক বগিতে উঠছে, আমিও তাদের সাথে ঐ বগিতে
উঠে গেলাম, আমি দরজার সামনে বসলাম, আর তারা বগির মধ্যেখানে বসলো
এক ষ্টেশন যাওয়ার পর আমি তাদের পাসের সিটে গিয়ে বসলাম, আমি পিছনে তাকালাম তো
মেয়েটার চোখে চোখ পড়লো। আমি জানালা দিয়ে মুখ বের করে আছি, সেই মেয়েটিও জানালা
দিয়ে মুখ বের করে আছে। আমি যখন তার দিকে তাকাচ্ছি সেও আমার দিকে তাকাচ্ছে,
বারবার করে আমাদের চোখে চোখ পড়ছে, আমি অনেকটাই নারভাস হয়ে গেছিলাম, আমার সামনে
একটা ছেলে বসে ছিলো। তাকে আমার জায়গাতে আসতে বললাম এবং আমি তার জায়গায় চলে
গেলাম। তারপর আমরা দুই জন সামনা সামনি হয়ে গেলাম, আমিও ওর দিকে তাকিয়ে আছি, সেও
আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তখন আমার ভালো লাগা অনুভব করছিলাম।
হঠাৎ করে সেই মেয়ে আমাকে চোখ মারলো, সাথে সাথে আমার শরীর ঘামে ভিজে গেল। আমি
বুঝতেই পারছিলাম না যে, আমার সাথে এটা কি হলো, তারপর আমরা ইশারাতে কথা বলতে
লাগলাম। তখন আমার ভিতরটা অনেক খুশি খুশি লাগছিল। তখন সময়টা ছিলো করোনার সময়,
সবাই মাস্ক পড়া ছিলো, আমিও ছিলাম। সে আমাকে বলল, আমার মাস্ক খুলতে। সে আমার মুখ
দেখবে তাই, আমি মাস্ক খুললাম, সে আমার মুখ দেখলো, আমি তার মুখ দেখলাম।
আমি তখন ভাবছিলাম যে, তাকে নম্বর দিবো কিভাবে? আমার সাইটের সিটে একটা আপু
বসেছিলো, আমি মেয়েদের অনেক ভয় পেতাম তবুও সাহস করে সেই আপুটার কাছে গেলাম। গিয়ে
সবকিছু খুলে বললাম, তারপর সে বলল যে, আমার অনেক ভয় করছে, আমি আপনার নম্বর তাকে
দিতে পারবো না।আমি তার কাছ থেকে চলে আসলাম, আমার ব্যাগ থেকে আমার ডাইরিটা বের
করলাম, তারপর আমার নম্বরটা লিখলাম, রহনপুর আসতে আর মাত্র ২০-২৫ মিনিট সময় ছিলো,
তাকে দেখলাম সে সাইটের সিটে চলে আসলো।
আমি তাকে বললাম, একটু জোরে জোরে যে, বেশি সময় নাই, যা করবা তাড়াতাড়ি করো। এমন
করতে করতে রহনপুর চলে আসলাম। আমার মন বলছিলো, তাকে মনে হয় আর নম্বর দেওয়া হবে
না। ট্রেন থামলো, মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেলো, এতো কিছু হওয়ার পর যদি পরে তার
সাথে কথা না হয়, তাহলে কেমন হলো, এ সব ভাবছিলাম। সবাই ট্রেন থেকে নামছে,
এমতাবস্থায় সে মেয়ে আমার হাত থেকে নম্বরটা নিয়ে লিলো, আমি অনেক আনন্দিত
হলাম।
তার ভাই ভাবী সামনে হাটছে আমি আর সে মেয়ে এক সাথে তাদের পিছনে হাটছি, তারা
কিন্তু আমাদের ব্যাপারে কিছুই জানেনা।তারপর দেখলাম তার ভাবীর বাবা এসেছে তাদের
রিসিভ করতে, তারপর তার ভাই বলল, ঐ মেয়েকে যে, তুই বাইক-এ চলে যা। আমরা রিক্সায়
আসছি। আমি পাশে দাড়িয়ে থেকে সব দেখছিলাম এবং সে যাওয়ার সময় আমাকে টা টা দিয়ে
গেলো। ও সময়টা ছিল, ২৮-০৮-২১ইং রোজ, শনিবার, সময়: সকাল ১১.৩০ মিনিট। ঐ তার
বাসায় চলে গেলো, আমিও আমার বাসায় চলে আসলাম।
ঐ তার বাসায় চলে গেলো, আমিও আমার বাসায় চলে আসলাম।আমি বাসায় এসে আমার ভাবীকে
সব খুলে বললাম, আমার ভাবী বলল যে, ঐ মেয়ে তোমার সাথে ফাইজলামী করেছে। একথা
শুনে আমার মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেলো, আমি কিন্তু তার কথা সব সময় ভাবছি, বিকেল
হলো আমি আমার ম্যাসে চলে গেলাম, তবুও তার কথা আমার সব সময় মনে পড়ছে।আমার
রুমমেটদের এ সব কিছু বললাম, তখন তারা অনেক হসলো, আমার অনেক খারাপ লাগলো, একা
একা শুয়ে ভাবছি যে, সে মেয়েকি আমার সাথে এসব হাসি মজা করলো, সে কি আমাকে ফোন
দিবে, সারাদিন সারারাত কেটে গেলো সে আমাকে ফোন দিলোনা।
তার পরের দিন বিকেলে আসরের নামাজ পড়ে বাহিরে যাবো ঘুরতে এ জন্য রেডি
হচ্ছিলাম। সে সময় আমার নাম্বরে ফোন আসলো, আমি ফোন রিসিভ করলাম সে কেটে দিলো,
কিছুক্ষণ পর আবার ফোন দিলো রিসিভ করলাম আবার কেটে দিলো। আমি ব্যাক না করে
ঘুরতে বেরিয়ে গেলাম। বাহিরে গিয়ে আমি ভাবলাম যে, কে সে যে আমাকে ফোন করলো।
আমি ফোন ব্যাক করলাম, একটা মেয়ের কন্ঠ শুনতে পেলাম, আমি বললাম কে আপনি, ঐ পাশ
থেকে উত্তর আসল যে, আমি ঐ মেয়ে যার সাথে আপনার ট্রেনে দেখা হয়েছিল, একথা
শুনার পর আমি অনেক খুশি হয়ে গেলাম। আমি তার নাম জানতে চাইলাম, তার নাম বলল,
কেয়া। আমরা অনেকক্ষণ কথা বললাম। তারপর সে ফোন কেটে দিলো। আমি আর ফোন দিলাম
না।
আমি ভাবতে লাগলাম তার নাম কেয়া, আমার নাম করিম, মিল আছে, এটাকি আল্লাহর পক্ষ
থেকে, এসব কিছু আমার মাথায় ঘুরছিল। আমার মন থামছেনা, আমি তাকে আবার ফোন
দিলাম, তার বোন ফোন রিসিভ করলো, আমি অনেক ভয় পেয়ে ফোন কেটে দিলাম দিলাম। আমি
ভেবে ছিলাম যে, তার কাছে ফোন আছে মনে হয়। রাত ৮টা বাজে, তখন আমার মন বলছে
একটু তার সাথে কথা বলি, বাট ফোন দিলামনা, রাত ১০টার পর ফোন দিলাম আবার তার
বোন ফোন রিভিস করল, তার সাথে অনেকক্ষণ কথা বললাম, আমাদের ব্যাপারে তার বোন সব
জেনে গেল। কেয়া আমাকে তার বোনের ফোনে ইমুতে এ্যাড করেছিল, তার দুলাভাই সহ
জেনে গেছিলো, তার দুলাভায়ের সাথেও কিছুক্ষণ কথা হলো।
এভাবে ৩-৪ দিন চলে গেল আমাদের কথা হয়না, হঠাৎ করে একদিন ক্লাসে গিয়ে ক্লাস
ছুটির পর মানুষের নম্বর থেকে ফোন দেয়, আমরা দুইজন কিছুক্ষণ কথা বললাম। সে
আমাকে তার সাথে দেখা করতে ডাকলো, তার একটা বান্ধবী ছিল, নাম সুমাইয়া" সে পাশ
থেকে বলল যে, ভাইয়া আপনি যখন দেখা করতে আসবেন তখন কেয়ার জন্য একটা ফোন
কিনে নিয়ে আসবেন। আমি বললাম ঠিক আছে নিয়ে আসবো।আমার বৃহস্পতিবারের আগে ছুটি
নাই। তার জন্য আমি কেয়াকে বললাম বৃহস্পতিবার দেখা করতে, সে বলল, ঠিক আছে। আমি
একা যাইতে ভয় পাচ্ছিলাম, তাই আরো দুইজনকে সাথে নিলাম আমরা তিন জন
বৃহস্পতিবারের দিন রহনপুর চলে আসলাম। কেয়া তখন ক্লাস সেভেনে পড়াশুনা করতো।
রহনপুর রাবেয়া গার্লস স্কুলে।তার পর আমরা রাবেয়া গার্লস স্কুলের সামনে যাওয়া
মাত্র দেখতে পেলাম কেয়া দাড়িয়ে আছে।
আমরা রাবেয়া গার্লস স্কুলের সামনে যাওয়া মাত্র দেখতে পেলাম কেয়া দাড়িয়ে
আছে।কেয়া আমাকে দেখতে পেয়ে হাতের ইশারা করলো, আমরা দুইজন এক সাথে হলাম। কেয়া
বলল, চলো ষ্টেশনের দিকে যাই। আমি বললাম চলো, আমরা দুইজন নদীর ধারে দাড়ালাম,
ওখানে আমরা অনেক্ষন সময় কাটালাম।
তারপর আমরা রহনপুর এ.বি স্কুলের দিকে চলে গেলাম, কেয়া আমাকে প্রোপজ করলো,
তার বাসায় সাদা গোলাপ ফুলের গাছ ছিল সেখান থেকে ফুল নিয়ে এসেছিলো, সেখানে
একটা ছোট বাচ্চাকে দেখলাম। ঐ বাচ্চাকে ডেকে সে আমাকে প্রপোজ করলো, এবার কিছু
পিক তুললাম, তারপর কেয়া আমাকে বলল, যে সে আইস্ক্রীম খাবে, আমি দোকানে গিয়ে
দুইটা আইস্ক্রীম নিলাম ১০০ টাকা দিয়ে তারপর আমরা এ, বি স্কুলের মাঠে অনেক
আনন্দ করলাম, তারপর কেয়া তার স্কুলে নিয়ে গেল আমাকে, তখন বাজে দুপুর ১২.০০
টা, তার স্কুলের বিতর কিছু স্যার ছিল। আমাদের দেখে স্যারগুলো আমাদের ডাকলো।
তখন কেয়া আমাকে বলল যে, তুমি কোন কথা বলবেনা, চুপ করে থাকবা, আমি বললাম ওকে,
তাকে আমার কথা জিগাইলো, সে বলল, এটা আমার মামাতো ভাই। এ কথা শুনে আমি মনে মনে
হাসছিলাম। তারপর আমরা ওখান থেকে চলে আসলাম দুপুর হয়ে গেল, আমি তাকে তার বাসার
দিকে আগিয়ে দিয়ে আসলাম, সেই দিন তাকে একটা ফোন আর সিম কিনে দিয়ে
এসেছিলাম।
আমাদের প্রতিদিন রাত্রে কথা হতো। সে রাত্রে একাই ঘুমাইতো, রাত ৯টা বাজলে সে
আমাকে ম্যাসেজ করতো প্রতিদিন। আমিও প্রতিদিন সে সময় তার জন্য অপেক্ষা করতাম।
তার সিম আমি আমার ফোন থেকে কন্ট্রল করতাম, তাকে ম্যাসেজ কিনে দেওয়া সব আমি
দিতাম।তখন ম্যাসের দাম ছিলো। ১৭ টাকায় ৫০০ ম্যাসেজ আমাদের এভাবে অনেক আনন্দে
দিন কাটছিলো। এভাবে দুই সপ্তাহ কেটে যায়। আমি তাকে বললাম সামনে
বৃহস্পতিবার
আমার বড় ভাবীর বাসায় বেড়াতে যায় তুমি আর আমি কেয়া বলল ঠিক আছে। কেয়া আমাকে
বলল, যে আমি কি পড়ে যাযো। আমি বললাম আমাদের প্রথম দেখা যে, পোষাক পড়ে ছিলো
সেটা পড়ে যাবা। সে বলল ওকে। আমি ভাবীকে ফোন দিলাম সব কিছু বললাম, ভাবী বলল
ঠিক আছে নিয়ে এসো। আমার ভাবী অনেক খুশি ছিলো। আমার ভাবীর বাসা রহনপুর কলেজ
মোড় থেকে ১০ টাকা ভাড়া গ্রামের নাম বহিপাড়া আর কেয়ার বাসা রহনপুর
কলনি।বৃহস্পতিবার সকালে আমি রহনপুর গেলাম আমার যাইতে একটু দেরি হয়ে গেছিলো
কেয়া রহনপুর কলনিতে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো। সে আমাকে অনেক বার ফোন দিয়েছে।
আমি গাড়িতে থাকার কারণে রিসিভ করতে পারিনি
আমি তার সামনে যাওয়ার পর দেখলাম তার বান্ধবী তার সাথে। সে আমার উপর অনেক
রেগে আছে। আমি আসতে দেরি করেছি তাই। কেয়া আমার উপর বেশি রাগ করে থাকতে
পারতোনা। তার রাগ ভাংগানোর পর বললাম, ম্যাডাম এবার যায় কেয়া বলল, হ্যাঁ
মিস্টার চলো আমরা যাই। কেয়া মাঝে মাঝে দুষ্টামি করে আমাকে (এই যে মিস্টার)
বলে ডাকতো আমরা তিন জন কলেজ মোড়ে নামার সময় আমার ফোনে ভাবীর ফোন আসলো। ভাবী
বলল, আপসানাকে ফোন দাও ঐ কলেজ গেছে তাকে নিয়ে চলে আসো। আপসানা আমার ভাবীর ছোট
বোন তখন সে ইন্টারে পড়াশোনা করে আমি আপসানা আপুকে ফোন দিলাম সে রহনপুর ইউসুফ
আলী কলেজে পড়তো
আপু কলেজ মোড়ে চলে আসলো। আমরা চার জন চলে আসলাম ভাবীর বাসায়। আসার পর দেখলাম
আমাদের জন্য খাবারের অনেক আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের হালকা করে নাস্তা দিলো।
খাওয়া-দাওয়া করার পর কিছু সময় আমাদের নিয়ে গল্প করলো ভাবীর ভাবী, ভাবীর ছোট
বোন, ভাবীর মা, বাবা সবাইরে দেখলাম সবাই অনেক খুশি আমাদের দুই জনকে নাকি অনেক
মানিয়েছে। ১২ টার সময় কেয়া ভাবীকে চুপি চুপি কি বলল, তারপর ভাবী এক রুম
দেখিয়ে দিলো, ঐ রুমে কেয়া আমার হাত ধরে নিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার সময় তার
বান্ধবীকে বলল, এখানে থাক আমরা একটু কথা বলে আসছি। রুমে ঢুকার সাথে সাথে দরজা
লাগিয়ে দিলো, দরজা লাগানোর পর আমাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরলো আমি লজ্জাতে
তাকে বিছানাই ফেলে দিলাম এবং বললাম।
তুমি এটা কি করছো। তার মুখটা অনেক ভারী হয়ে গেলো। কেয়া বলল, আমি একটা সিনেমা
দেখেছি সেখানে নায়ক-নায়িকা এমন করেছে, একথা শুনার পর আমি তাকে কাছে নিয়ে
জড়িয়ে ধরলাম সে আমাকে চেপে ধরলো এবং আমাকে চেপে ধরতে বলল, এভাবে আমাদের কিছু
সময় কাটলো দুপুরে খাবার সময় হলো, আমাদের ডাকলো খাবার খেতে খাবারের আইটেম দেখে
আমরা অবাক এতো খাবার খাবো। খাবার খাওয়ার পর আমরা তিন জন আবার সেই রুমে চলে
গেলাম। কিছুক্ষণ পর ভাবীরা আসলো। আমরা সবাই গল্প করছি, কেয়ার বন্ধবী
সুমাইয়াকে তার দুলা ভাই ফোন দিয়েছে, সে চলে যাবে এমন টাইমে হঠাৎ টিপ টিপ
বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে, কেয়া বলল, আমি যাবো না আমি করিম এর সাথে যাবো। তারা
দুই জন কথা কাটা কাটি করতে লাগলো আমি বললাম চলে যাও আবার অন্য দিন আসবো।
বৃষ্টি টিপ টিপ করে হচ্ছিলো, তাও তাড়া চলে গেলো।
আমিও ৪.০০ টার সময় চলে গেলাম, আমাদের প্রতিদিন কথা হয় দিন কাল ভালো
যাচ্ছিলো, হঠাৎ একদিন বিকেল বেলায় আমাদের ঝগড়া হয়, আমি আসরের নামায পড়াছিলাম
সে সময় সে আমাকে অনেক মেসেজ ফোন দিয়েছে। নামাযের কারণে ফোন রিসিভ করতে
পারিনি, সে অনেক ভয় পেয়েছিলো, আমার নামায শেষে আমি তাকে ফোন দিলাম, সে বলল,
দাড়াও একটু আমি ছাদে যাই। আমাদের কথা হলো রাগ ভাংগলো, খুব ভালো ভাবেই আমরা
কথা বলছিলাম। হঠাৎ করে তার বোন আমাদের কথা বলতে দেখে নেই। কেয়ার কাছ থেকে ফোন
নিয়ে নেয়। কেয়ার বাবা ফোন টিকে ভেংগে দেয় এবং তাকে অনেক মারে। কেয়ার ভাই
আমাকে রাতে ফেনি দেয়, কেয়ার ভাই ছিলো পুলিশ।
আমাকে তার ভাই ভয় দেখানোর চেষ্টা করে এবং বলে তুমি আমার বোনের জীবন থেকে না
গেলে তোমার জীবন নষ্ট করে দিবো। এগুলো কথা শুনার পর আমি অনেক ভয় পেয়ে যাই।
আমি সাহস নিয়ে তার ভাইকে বললাম, ভাইয়া আপনার বোন যদি আমাকে ফোন না দেয় তাহলে
আমি আর কখনো আপনার বোনকে ফোন দিবনা। একথা বলার পর কেয়ার ভাই আমার সাথে দেখা
করতে চাইলো, আমি প্রথমে দেখা করতে রাজি হইনাই। কেয়ার ভাই বলল, আমি তোমার কোন
ক্ষতি করবো না, তখন আমি রাজি হই। কারণ বসত দেখা করা হয়নি আমাদের। পরের দিন
ক্লাস করে এসে শুয়ে আছি, হঠাৎ আমার ফোনে ফোন আসলো কেয়ার বাবার নম্বর থেকে।
আমি ভয়ে ভয়ে ফোন রিসিভ করলাম ও পাশ থেকে কেয়ার কন্ঠ শুনতে পেলাম গতকাল যা যা
হয়েছে সব বলল ২-৩ মিনিট কথা বলার পর কেয়া আমাকে বলল, আমাদের আর ঘন ঘন কথা
হবেনা বলে ফোন কেটে দিলো।
আমি অনেক ভেংগে পড়লাম আমার কিছুই ভালো লাগছেনা ক্লাসে মন বসাতে পারছিনা।
কোথাও গিয়ে আমার মন স্থির করতে পারছিনা, এভাকে এক মাস পার হয়ে গেলো, কথা বলার
তিব্র ইচ্ছে তবুও কথা বলতে পারছিনা। শুনলাম রহনপুরে একটা মেলা হবে, আমি আমার
মামাতো বোন সব জানতো। মামাতো বোন আমরা ১-২ বছরের ছোট তাকে বললাম কেয়ার
আব্বুকে ফোন দিবি? কেয়ার বান্ধবীর পরিচয় দিবি। তারপর কেয়া কলে আসলে আমার নাম
বলবি দিয়ে আমাকে দিবি। আমার মামাতো বোন ভয়ে রাজি হয়না। আমার দিকে দেখে রাজি
হলো, তার আব্বুকে ফোন দিলাম বিকেলে। মামাতো বোনকে দিয়ে দিলাম যেমন প্লান
করেছিলাম সেভাবেই কাজ হলো, আমাদের কথা হওয়ার পর বললাম রহনপুরে মেলা আছে। ঐ
দিন বিকেল বেলা দেখা করবো মেলায়। আর তোমার জন্য একটা ফোন কিনে নিয়ে যাবো,
কেয়া বলল, সেই দিন সকালে তোমাকে ফোন দিবো।
সেই দিন সকাল হলো আমি তার ফোন এর অপেক্ষায়, দুপুরের সময় হয়ে গেলো তবুও ফোন
দিলোনা ২টার সময় ফোন দিলো, তখন আকাশে অনেক মেঘ। কেয়া বলল, যে ৪টার সময়
রহনপুরে উপস্থিত থাকবা।বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে আমি বললাম কিভাবে যাবো। সে বলল,
আমি জানিনা তবে তুমি আসবা। আমি ৪টার সময় রহনপুর চলে গেলাম কেয়াকে তার বাসা
থেকে আসতে দিবে না বৃষ্টির কারণে। তবুও সে কান্না করে আসলো, এসো আমাকে দেখার
পর তার মনটা ভালো হলো, দেরি হওয়ার কারণে মেলা যাওয়া হলো না, ওখানে একটা
বেসরকারি কলেজ ছিলো, সেখানে সময় কাটালাম, মাগরীব হয়ে গেল, সে তার বাসায় চলে
গেলো আমিও চলে আসলাম।
এভাবে আমাদের দিন অনেক ভালো কাটছিলো, আবার আমরা আগের মত কথা বলতে থাকি,
আবার বৃহস্পতিবার দেখা করার কথা বলে। তার মা ক্যান্সারের রোগী যখন তখন মারা
যেতে পারে তার মন খারাপ থাকলে আমাকে তার মন ভালো করে দিতে হবে। তারা ছিল
দুই বোন এক ভাই। সে সবার ছোট।বৃহস্পতিবার দেখা করতে গেলাম তাকে দেখে আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল, সে মন
খারাপ করে আছে তাই। আমরা রহনপুর এ. বি স্কুলের মাঠে এক কোনাই গাছের নিচে
বসলাম, সে নিজ হাতে কিছু খাবার বানিয়ে নিয়ে এসেছিল, আর একটা আপেল আমাকে
খাইয়ে দিলো।
তারপর আমার হাতের উপর হাত রেখে বলল,
করিম................................................?
তারপর আমার হাতের উপর হাত রেখে বলল, করিম তুমি আমাকে ছেড়ে যেওয়া, আমি সবার
থেকে তোমাকে আলাদা ভাবে ভালোবাসি। আমার মা মারা যাবে, তুমি যদি আমায় ছেড়ে
চলে যাও আমি একেবারে শূন্য হয়ে যাবো। এগুলো শুনার পর আমি তাকে শেষ। ভরস
দিলাম। আমার মৃত্যু ছাড়া আমাকে তোমার থেকে কেউ আলাদা করতে পারবেনা। সে অনেক
খুশি হলো এবং বলল, আমাদের ভালোবাসার একটা নাম দাও আমি বললাম আমি এসব বুঝি
না। তুমি একটা নাম দাও, সে ভেবে নাম দিলো। (আকাশ ছোয়া ভালোবাসা)।
দুপুর হয়ে গেলো আমরা বাসায় আসার সময় একটা গোলাম ফুল কিনে দিলাম। আমি চলে
আসার সময় আমাকে একটা চিঠি দেয় এবং বলে একা বসে পড়বা এবং আমার হাতে ১০০ টাকা
দেয় এবং বলে তুমি ভাড়া দিয়ে যাবা। সে বাসায় চলে গেলো আমিও চলে আসলাম। এসে
চিঠিটা খুললাম। পুরো সপ্তাহের মনের অনুভূতি গুলো সেখানে লিখাছিলো।
এরপর আমরা প্রতি সপ্তাহ দেখা করতাম এভাবে অনেক দিন চলে গেলো। আমাদের
প্রেমের বয়স যখন সাত মাস ১দিন তখন তার মা মারা যায়, সেই দিন ছিলো
২৯-০৩-২০২২ইং রোজ, মঙ্গলবার। সে আমাকে দুই দিন পর জানায় ১ তারিখে যে তার
আম্মা মারা গেছে। সে ভিষন কাদছিলো, তার কান্না দেখে আমি ভেংগে পড়ি। আমি তখন
ছিলাম ঢাকা গুলশান-১ আমার বন্ধু একটা আইডি কম্পানিতে জব করতো, আমি সেখানে
গেছিলাম আমার বাসা থেকে আমার যেতে দিবে না, আমি জোর করে গেছিলাম আমার বয়স
কম দেখে। আমি আমার বাবার কাছ থেকে ১লাখ টাকা নিয়ে ঘুস দিলাম আমি ঢাকা
গেছিলাম শুধু মাত্র কেয়ার জন্য, আমাকে যে কোন কাজে লাগাতে হবে, নাহলে আমি
কেয়াকে পাবো না।
যখন তার মা মারা যায় তখন আমার ঢাকা যাওয়া ২ মাস হয়েছে ৫ মাস ট্রেনিং এর
ভিতর মাত্র ২ মাস হয়েছে। তার মা মারা যাওয়ার ২দিন পর রোজা শুরু হলো,
০৭-০৯-২০২২ইং তারিখে। কেয়া আমাকে ফোন দিলো এবং বলল, তার বিয়ে ঠিক করছে, আমি
আর তোমার সাথে কথা বলতে পারবো না। আমার পুরো শরীর গরম হয়ে গেছিলো বুঝতে
পারছিলাম না যে কি করবো, আমি বললাম যে, বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়, সে বলল, তুমি
যদি পাঠাও তাহলে আমার মরা মুখ দেখবে, আমি এ কথা শুনার পর পুরাই ভেংগে পড়লাম
কষ্টের মাঝ দিয়েও বলে দিলাম ঠিক আছে ভালো থাকিও বলে ফোনটা কেটে দিলাম এভাবে
৫দিন কেটে গেলো। তার কথা মনে হলেই কেন জানি চোখ দিয়ে পানি চলে আসতো। কেয়ার
কোন দোষ নেই ঐ এ সব কথা অর ফ্যামিলির চাপে বলেছে ঐ তখন অনেক ছোট তার ভালো
হয়ে হুস হয়নি
আমার আম্মা আর আমার ভাবী সব কিছুই জানতো ১২ তারিখে আমার ভাবী আমাকে অনেক
বুঝালো। আমাকে ভাবী বলল, বাবাকে বলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাও, আমি ভাবীকে
বললাম তুমি বাবাকে রাজি করাও, এভাবে আমার পরিবারের সবাই রাজি হলো।
বিয়ের প্রস্তাব পাঠালো কেয়ার বাবা আমাদের বাসায় আসলো সব কিছু দেখে তার বাবা
রাজি কিন্তু তার ভাই আর বোন রাজি নেই।আমাদের ১৫ তারিখে কথা হয় আমরা দুই জন
ঠিক আছি। ১৮ তারিখে তার বোন আমাকে ফোন দেয় আমার পিক চায় ইমুতে। তার ভাইও
ফোন দিলো, তারপর আমি আমার পিক দিলাম। তারা সবাই আমার পিক দেখলোএখন আমি
ক্লাস টেনে পড়ি আর কেয়া অষ্টম শ্রেণিতে। আমাদের ২০ তারিখে কথা হয়, তারপর আর
আমাদের কথা হয়না। ঈদের ২দিন আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম কিন্তু সে ফোন দিলনা,
তাদের পরিবার থেকে কোন উত্তর আসছেনা। আমার মন অনেক খারাপ হয়েছিলো। আমি ঈদে
বাসায় গেলাম না, ঈদ হলো ০২-০৫-২০২২ইং আমি ভাবলাম সে আমাকে ফোন দিবে আজকে
বাট দেয়নি এরকম ভাবে ৩৬ দিন চলে গেল।
তারপর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি ২৭-০৫-২০২২ইং আমি ঢাকাতে অনেক মেডিকেল গেলাম কেউ
আমার কি হয়েছে এটা ধরতে পারলো না, হালকা করে মন বোঝানোর মত সবাই ঔষুধ দিলো,
আমি ভালো হলাম না, আমি আমার আম্মাকে বললাম সব কিছু। আমার আম্মা কান্না করে
দিলো। আমার আম্মা সবাইরে বলে দিলো আমার পরিবারের। ভাইয়া ভাবী সবাই আমারে
ফোন দিলো, আমার আম্মা কান্না করতে করতে বলল, বাবা তোর পায়ে পড়ি তুই বাসায়
চলে আয়, আমি তোকে হারাতে চাইনা, বাবা!
আমি ০১-০৬-২০২২ইং বাসায় আসলাম ৬দিন লাগলো আমায় সুস্থ হতে, আমি কেয়ার
সাথে কথা বলতে পাইনি আমার তার সাথে কথা বলার খুব ইচ্ছে করছে, আমি তার
বান্ধবী সুমাইয়াকে ফোন দিলাম সুমাইয়া বলল, আমাদের পরীক্ষা চলছে, তুমি কালকে
আসো সকালে আমি ০৭-০৬-২০২২ইং রহনপুর গেলাম কেয়ার সাথে দেখা করতে। আমি গেটের
সামনে দাড়ালাম সুমাইয়া কেয়া কাউকে দেখলাম না ১০টা বেজে গেলো। পরীক্ষা শেষ
হওয়ার অপেক্ষা করতে লাগলাম। ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম সবাই বারাই কিন্তু
চিনো চেনা মুখ খানা বেরোই না। ১.৩০ টা বেজে গেলো সবাই চলে গেলো শেষের দিকে
দেখতে পেলাম সুমাইয়াকে ঐ আমাকে দেখে আমার কাছে চলে আসলো এবং বলল, চলো হাটতে
হাটতে কথা বলি।
সুমাইয়া বলল, আমি আজকে কেয়াকে দেখতে পাইনি, ঐ আগেই চলে গেছে। আমি বললাম আমি
তো এখানে সকাল থেকে দাড়িয়ে আছি, সুমাইয়া বলল, হয়তো ভিড়ের মধ্যে তুমি তাকে
দেখতে পাওনি। সে তোমাকে দেখছে, আমি হয়তবা। সুমাইয়া বলল কেয়ার ফোনটা আমাকে
দিয়ে গেছিল কিছু দিন আগে। আনি নিয়ে এসেছি তোমাকে দিবো বলে। ও ফোনটা বের করে
আমাকে দিলো এবং বলল, কেয়া আগের থেকে অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছে। সুমাইয়া বলল,
কালকে আসো সিওর দেখা হবে।আমি আবারো ০৮-০৬-২০২২ইং রহনপুর গেলাম। আমি ব্রিজে
দাড়িয়ে আছি হঠাৎ কেয়াকে দেখতে পেলাম আমার মনটা জড়িয়ে গেল, তাকে দেখে। সে
আমাকে দেখে অবাক হয়ে গেল। আমি তাকে বললাম ৫মিনিট সময় দিবা? সে কোন কথা না
বলে চলে গেল।
আমার অনেক খারাপ লাগলো, ভাবলাম এমন এক সময় ছিল, দুই জন দুই জনকে ছাড়া কিছুই
বুঝতাম না, এক সময় আমার হাতে হাত রেখে কথা দিয়েছিল, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি
তোমার সাথে থাকবো। এসব মনে পড়া মাত্রই আমার চোখ দিয়ে পানি চলে আসছে। নিজেকে
কন্ট্রল করতে পারছিনা, তবুও মন খারাপ না করে পরীক্ষ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে
লাগলাম। ২টার পর সে বের হলো, আমি তাকে বললাম চলো সাইডে কথা আছে, সে আমাকে
দেখে চলে গেল, আমার কথা শুনল না।আপসোস আমি বাসায় চলে আসলাম। বাসায় আসার পর
আমার ভাবী বলল, কি কেয়ার সাথে দেখা হলো? আমি বললাম না। আমি ভিষন ভাবে
ভেঙ্গে পড়লাম, আমার কাউকে সহ্য হচ্ছে না। কিছুই ভালো লাগছেনা, আমার আম্মা
আমার অবস্থা দেখে বলল, বাবা বউ দেখি বিয়ে করে নাও, কেয়াকে বিয়ে করতে হবে কে
বলেছে।
আমার বাসার সবাই আমারে বুঝালো, বাট আমার কিছুই মাথায় ঢুকছে না। আমার কেয়ার
প্রতি এক আকাশ পরিমান রাগ হলো, আমি বাসা থেকে জোর করে ১০-০৬-২০২২ইং ঢাকা
চলে আসলাম ১২-০৬-০২০২২ইং কেয়া আমাকে ফোন দিলো, সে বলল, তার ভাই বিয়েতে রাজি
হয়েছে, আমি বললাম দেখো কি হয়, যদিও তার উপর অনেক রাগ হয়েছিলো, তারপরও তার
কথা মনে হলে চোখ দিয়ে পানি চলে আসতো, ২৪-০৬-২০২২ইং তারিখে রাত ১১টার সময়
কেয়ার আব্বুর নম্বর থেকে ফোন আসলো রিসিভ করলাম, কেয়া বলল, ফোনটা ব্যাক করো,
আমরা দুই জন প্রাই ৭০ মিনিট কথ বললাম, আমি তার উপর অযথা রাগ করেছি, সেদিন
সে আমাকে এড়িয়ে গেছিলো কারণ
২৪-০৬-২০২২ইং তারিখে রাত ১১টার সময় কেয়ার আব্বুর নম্বর থেকে ফোন আসলো রিসিভ
করলাম, কেয়া বলল, ফোনটা ব্যাক করো, আমরা দুই জন প্রাই ৭০ মিনিট কথ বললাম,
আমি তার উপর অযথা রাগ করেছি, সেদিন সে আমাকে এড়িয়ে গেছিলো কারণ তার বোন তার
মামাতো বোন পড়তো তার সাথে স্কুল আসার সময় তার সাথে আসতো আবার যাওয়ার সময়
থাকতো সব সময় তাকে নজরে রাখছিলো, তাই সে আমাকে এড়িয়ে চলে যায়, সে বাসায়
গিয়ে সেই দিন অনেক কান্না করেছে।আসলে সে আমাকে অনেক ভালোবাসে আমি মাঝে মাঝে
তাকে ভুল বুঝি আগে যখন আমরা কথা বলতাম তখন প্রতিদিন আমি রাগারাগি করতাম
একদিন সে আফসোস করে বলেছিল, আজকে সারাদিন ভেবেছি তোমার সাথে কথা বলবো
ভালোভাবে, আবার তুমি ঝগড়া শুরু করে দিলে কান্না করে দিয়েছিল।
সেই দিন কথা শেষ করে আমরা দুই জন ঘুমিয়ে গেলাম আবার দুইদিন পর ২৬-০৬-২০২২ইং
ফোন দেয় একই টাইমে, তার বাবার ফোন চুরি করে তার রুমে নিয়ে এসে সে আমাকে ফোন
দিয়েছিল। সেদিন ৯৪ মিনিট কথ বললাম সেই দিন আমরা দুইজন অনেক খুশি ছিলাম।
কেয়া আমাকে বলেছিল সেদিন আমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে ना।আমি তারপর
প্রত্যেকটা রাত অপেক্ষা করতাম কিন্তু কেয়া ফোন দিতো না, একদিন কেয়ার ভাবী
আমাকে ফোন দেয় ইমুতে। প্রায় ২৫-৩০ তারিখের ভিতর কোন দিন মনে পড়ছে না, কেয়ার
ভাবী আমাকে বলল, কেয়াকে ভুলে যেতে আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম ঠিক আছে।
আমার অফিসের একটা অনুষ্ঠান ছিলো ২ তারিখে সবাই আনন্দ করছে কিন্তু আমার
আনন্দ করার ইচ্ছে করছে না। এভাবেই দিন কাটছে ১০-০৭-২০২২ইং কুরবানির ঈদ আমি
০৭-০৭-২০২২ইং তারিখে বাসায় রওনা দিলাম, আমি ভেবে ছিলাম কেয়া আমাকে ফোন
দিবেনা। ঈদের দিন সকালে গোসল করে ৬.৪৫ রওনা দিলাম। নামায শেষে বাসায় আসার
পর ফোন দেখলাম একটা নম্বর থেকে ৭.০৪ এ তিনবার ফোন দিয়েছে আর একটা ম্যাসেজ
দিয়েছে, ঈদ মোবারক লিখে, আমি ১০টার পর ফোন দিলাম সে পরিচয় দিলনা, আমি কিছু
বললাম না, দুপুরের পর ম্যাসেজ আসলো ঐ নম্বার থেকে বলল, আমি কেয়া।
রাতে ঐ নম্বর থেকে ফোন আসলো রিসিভ করলাম তার ভাবী পরিচয় দিলো, কথা বললাম
কেয়ার সাথেও কথা হলো, ঈদের পরের দিন দেখা করতে ডাকলো। সেই দিন ছিল,
১১-০৭-২০২২ইং সকালে রওনা দিলাম। আমরা তিন জন গেলাম যেখানে দেখা করার কথা
ছিল সেখানে সে আসলনা। আমার মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল, সে জায়গা থেকে চলে
আসলাম।আমরা তিনজন সোনা মসজিদ চলে গেলাম ঘুরতে যাতে মনটা একটু ভালো হয়।
দুপুরের সময় কেয়া ফোন দিলো বলল, আপুর জন্য যাইতে পারিনি। আমি তার জন্য কিছু
গিফট আর ক্যাডবেরি চকলেট নিয়েছিলাম, তাকে বললাম তোমার বাসার পাশের দোকানে
রেখে দিবো তুমি নিয়ে নিবে।
সোনা মসজিদ থেকে রওনা দিলাম মাগরীবের সময় আমি যখন কলনিতে চলে এসেছি, সে তখন
আমাকে ফোন দেয় বলে, আমি রাস্তার দাড়িয়ে আছি তুমি কত দূরে। আমি বললাম একটা
গাড়ি যাবে রেডি থাকো। গেলাম দোকানে ব্যাগটা দিলাম আবার ফেরত চলে আসলাম,
কেয়া তার বাড়ির সামনে দাড়িয়ে ছিল, তাকে বললাম থাকো চলে গেলাম। সে বলল, ঠিক
আছে যাও, আর বললাম সকালে ব্যাগটা নিয়ে আসিও, তারপর কেয়ার সাথে আর কথা হয়নি,
এভাবে আমার দিন কাটছে ১৭ তারিখে তার কথা বেশি মনে হলো, আমি কান্না করে
দিলামএভাবেই কষ্টে দিন কাটছে হঠাৎ ০৫-০৮-২০২২ইং রাতে একটা নম্বর থেকে ফোন
আসে, সে পরিচয় দিলোনা, আমি তার কণ্ঠ শুনে বুঝলাম সে কেয়া, এক পর্যায়ে সে
ধরা দিল এবং বলল, তার বিয়ে হয়ে গেছে।
এভাবেই কষ্টে দিন কাটছে হঠাৎ ০৫-০৮-২০২২ইং রাতে একটা নম্বর থেকে ফোন আসে,
সে পরিচয় দিলোনা, আমি তার কণ্ঠ শুনে বুঝলাম সে কেয়া, এক পর্যায়ে সে ধরা দিল
এবং বলল, তার বিয়ে হয়ে গেছে। আমার তখন এটা স্বপ্ন মনে হচ্ছিল, আমি নিজেকে
সামলাতে পারছিনা, গল্প গুছিয়ে বলা যায়, কিন্তু মনের অনুভূতিগুলো গুছিয়ে বলা
যায় না, সে আমাকে বলল, আমি তোমার হতে পারলাম না, আমাকে তোমার জীবনে বন্ধু
হিসেবে সারা জীবন রেখো, তার নম্বর বন্ধু হিসেবে সেভ করলাম। আমার ভালো বাসা
শেষ আকাশ ছুয়া ভালোবাসা ছিল, কে জানত এভাবে আকাশে উড়ে যাবে।
আমি তখন মাঝে মাঝে হ্যাং হয়ে যেতাম। প্রায় সময় আমি আনমনা হয়ে থাকতাম। আমাকে
দেখে আমার দুই জন স্যার ছিল, আমরা অনেকটা বন্ধুর মত থাকতাম। তারা বলল, কি
হয়েছে? আমি সব বললাম, আমার আগের মত ব্রেন তখন ছিলনা, ১ মাস আগে ১৫ দিন আগে
কি হয়েছে এসব ভুলে যেতাম, অনেক কিছু ভুলে যেতাম, আমার বাসায় কাউকে বলিনি
এখনো, কেয়ার বিয়ে হয়ে গেছে। আমাকে তারা দুইজন বন্ধু ডাক্তার দেখায় ডাক্তার
বলে এ রোগের কোন ঔষুধ নেই, তুমি পাগল হয়ে যাওনি এটাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায়
কর, একথা শুনে আমার ভয় হয়ে গেল। আমি প্রতিদিন নামাযের পর আল্লাহর কাছে দুয়া
করতাম, আমাকে এগুলোর ভিতর থেকে বের করো, আমার আর কেয়ার বন্ধু হিসেবেই কথা
হতো, হঠাৎ তার হাজবেন্ট জানতে পারে, সব কিছু জেনে নেই। আমার সাথে দেখা করতে
চায়। আমি রাজি হয়ে যাই।
সে ২৫-১২-২০২২ইং তারিখে ঢাকায় আসে এসে আমাকে ফোন দেয়, আমাকে ইয়ার্পোর্টে
ডাকে আমি বললাম, দেখা করার মন থাকলে আমার এখানে আসেন, এভাবে ৪দিন চলে গেল,
আমি থাকতাম ঢাকা হাতিরঝিল এর পাশেই। আমি আমার বন্ধু দুইটাকে বললাম, তারা
বলল, সে এসে তোমাকে মারতে পারে, তাছাড়া সে ঢাকায় কেন আসবে? তারা বলল,
হাতিরঝিল ছাড়া কোথাও যাবানা, আমাকে ফোন দেয় ৩০-১২-২০২২ইং বিকেলে বলে
মাগরীবের পর আসতে বললাম সে বলল, আপনিকি ড্রিং করেন? আমি বললাম না, সে আমাকে
বারে ডাকে আমি বললাম যাবোনা, ওখানে এখনে আসেন, কেয়ার হাজবেন্ড জানার পর
থেকে কেয়ার সাথে আমার কথা হয়না, সে আসল আমার বন্ধু দুইটা বলল, কিছু হলে
আমাদের কাছে চলে আসবে, আমি বললাম ঠিক আছে।
সে ৭-৮ জন পোলাপান নিয়ে এসেছিল ভাড়া করে। আমি এটা বুঝতেই পারিনি, তার সাথে
বসে চা খাইলাম, সে আমার ফোন নিলো, তারপর দাড়িয়ে আমাকে একটা চড় মারলো, আমি
দাড়িয়ে আমার বন্ধুদের কাছে চলে গেলাম তারা ১০ জন মতো চলে আসলো হাতিরঝিল এর
যত দোকান্দার আছে সবাই আমাদের চিনে, সেই অনেক মানুষ ছিল, সবাই ঘুরতে এসেছে,
তারা ১০ জন এসে চিল্লাইতেছে বলছে, ঐ ছেলে আমার বউকে ডিস্টার্ব করে। ও
জায়গার সব দোকানদার চলে আসলো তাদের ১০ জন এর ভিতর সবাই পালিয়ে গেল, শুধু
কেয়ার হাজবেন্টকে ধরতে পারলাম তাকে সবাই মাইরা আধা মরা করে দিলো, তারপর
পুলিশ আসলো এবং তাকে ধরে নিলো, সে মদ খেয়ে ছিল, তাই তাকে নিয়ে চলে গেল,
তারপর তার কি হয়েছে জানিনা। আমার বাসায় বললাম, কেয়ার বিয়ে হয়ে গেছে, তখন
তারা সাথে সাথে আমায় বাসায় ডাকে আমি বাসায় চলে আসি। এখান থেকেই আমি কেয়াকে
ভুলে যাই।

আপনি নিবোর্ন সাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url